গ্রীষ্মকাল এলেই বাংলাদেশের বাজারে লাল টসটসে তরমুজের সমাহার দেখা যায়। তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি নেই। কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মানুষই তরমুজের শুধু লাল অংশটুকুই খাই, আর খোসা ও বীজ ফেলে দিই। অথচ পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজের খোসা ও বীজেও রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
খোসায় লুকিয়ে থাকা পুষ্টি
তরমুজের সবুজ খোসার ভেতরের সাদা অংশটিকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই অংশ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে পারে।
এছাড়া খোসায় থাকা সিট্রুলিন নামক একটি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি রক্তনালিকে প্রসারিত করে, ফলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজের খোসা দিয়ে সালাদ, ভর্তা বা আচার তৈরি করা যেতে পারে। এমনকি স্মুদি বা জুসেও এটি ব্যবহার করা সম্ভব, যা শরীরকে আরও বেশি হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
বীজেও রয়েছে চমকপ্রদ উপকারিতা
তরমুজের বীজ অনেকেই অখাদ্য মনে করেন। কিন্তু এই ছোট ছোট বীজে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজে বা শুকিয়ে তরমুজের বীজ খেলে তা শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের মাংসপেশি গঠনে সহায়ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হাড় মজবুত রাখতেও ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নেও কার্যকর
তরমুজের খোসা ও বীজ শুধু অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যেই নয়, ত্বক ও চুলের যত্নেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। খোসা বেটে মুখে লাগালে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল হয় বলে অনেকে মনে করেন।
অন্যদিকে বীজ থেকে তৈরি তেল চুলে ব্যবহার করলে চুল মজবুত হয় এবং ঝরে পড়া কমে। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।
পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি
তরমুজের খোসা ও বীজ ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করলে খাদ্যের অপচয় কমানো সম্ভব। বর্তমান সময়ে যখন খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, তখন এই ধরনের সচেতনতা খুবই প্রয়োজন।
খোসা দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি করাও একটি ভালো উপায়। এতে করে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজের খোসা ও বীজ খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। কীটনাশকের সম্ভাব্য উপস্থিতি দূর করতে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
তারা আরও পরামর্শ দেন, নতুনভাবে খাদ্যাভ্যাসে এই অংশগুলো যুক্ত করার আগে অল্প পরিমাণে খেয়ে দেখা উচিত, যাতে শরীরের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা তা বোঝা যায়।


